বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে নামার আগে আর্জেন্টিনা ছিল আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল। অথচ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে রীতিমতো যেন খুঁজেই পাওয়া গেল না লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের। গোলবারের দিকে একটি শটও নিতে ব্যর্থ হয়ে আর্জেন্টিনা গড়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনও ঘটেনি।
পরিসংখ্যানের পাতায় দুঃস্বপ্ন
ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি শটও নিতে ব্যর্থ হওয়ার মতো নজির আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এবারই প্রথম। কেবল গোলমুখে শট নেওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাদের ব্যর্থতা, বিরতির আগে পুরো ৪৫ মিনিটে স্পেনের পেনাল্টি বক্সে বল স্পর্শ করতেও পারেনি মেসিরা। এমনকি প্রথমার্ধে কোনো কর্নার কিকও আদায় করতে পারেনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
স্পেনের আধিপত্য ও আর্জেন্টিনার অসহায়ত্ব
ম্যাচের ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল স্পেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা ব্যস্ত ছিল কেবল নিজেদের রক্ষণভাগ সামলাতে। স্পেনের গোলমুখে তিনটি শট নেওয়ার বিপরীতে আর্জেন্টিনার প্রত্যাশিত গোলের (xG) হার ছিল শূন্য। লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালের আক্রমণগুলো ঠেকিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ গোলবার অক্ষত না রাখলে প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়তে পারত আর্জেন্টিনা।
মেসির নিষ্প্রভ উপস্থিতি ও চোটের মিছিল
ফাইনালের মতো ম্যাচে লিওনেল মেসির প্রভাব ছিল অত্যন্ত সীমিত। প্রথম ২০ মিনিটে তিনি বল স্পর্শ করতে পেরেছেন মাত্র দুবার। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি চোটের আঘাতও ছিল আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা। প্রথমার্ধের শেষদিকে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনার রক্ষণাত্মক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
রেকর্ড গড়া ম্যাড়মেড়ে প্রথমার্ধ
পুরো প্রথমার্ধে দুই দল মিলে মাত্র তিনটি শট নিয়েছে (সবগুলোই স্পেনের)। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচের এক অর্ধে দুই দল মিলে শটের দিক থেকে এটিই সর্বনিম্ন রেকর্ড।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে আর্জেন্টিনার এমন নখদন্তহীন আক্রমণভাগ ফুটবল প্রেমীদের জন্য ছিল এক বড় বিস্ময়। স্পেনের সুশৃঙ্খল ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনার এই রেকর্ডটি তাদের ফাইনাল যুদ্ধের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
জেএস